কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যা মামলায় আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু ড্রাইভারের গ্রেপ্তার ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, কালু ড্রাইভার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকায় কালু ড্রাইভারের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার। এ সময় লিখিত বক্তব্যে কালুর ছেলে মোহাম্মদ ইমন উদ্দিন অভিযোগ করেন, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বাবাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, কালু ড্রাইভারকে কয়েক দিন থানায় আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইমন উদ্দিন বলেন, তারা কোনো প্রতিশোধ চান না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে তার বাবাকে মুক্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে জিসান হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই কায়সার হামিদ বলেন, কালু ড্রাইভারের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
কায়সার হামিদ আরও বলেন, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু উদ্ঘাটন হয়নি। এ কারণে তিনি তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের দাবিও জানান।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, জিসান হত্যা মামলায় আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী-কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে ছাত্রদল নেতা জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে কালু ড্রাইভারের পরিবার ও নিহতের স্বজনরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কেএম ইয়াহিয়া নয়ন, নির্বাহী সম্পাদক: ম.ত.ই- তৌহিদ, সহ সম্পাদক: নুসরাত ফারহানা নীলিমা, বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মদ সাদেক।
Copyright © 2026 Daily Today Times. All rights reserved.