মৃত্যুফাঁদ চুনতিতে স্বস্তির ছোঁয়া: চার লেনে রূপান্তর হচ্ছে ১ কিমি সড়ক
নিজস্ব প্রতিবেদক | নেশন টুডে লোহাগাড়া
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় অবশেষে শুরু হয়েছে সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজ। মঙ্গলবার সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ৯০০ মিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
ধারাবাহিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, পূর্ণাঙ্গ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
এক নজরে উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র
বর্তমানে মহাসড়কটি মাত্র ২১ ফুট চওড়া, যা সম্প্রসারণের পর ৩৪ ফুটে দাঁড়াবে। সওজ সূত্রে প্রাপ্ত তিনটি প্যাকেজের কাজের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
এক নজরে উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র
সড়কের বর্তমান ও প্রস্তাবিত অবস্থা:
বর্তমান প্রস্থ: ২১ ফুট।
প্রস্তাবিত প্রস্থ: ৩৪ ফুট।
বিশেষ সংস্কার: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে সড়ক অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হচ্ছে।
চুনতি মডেল: চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে চার লেন করা হচ্ছে।
প্যাকেজভিত্তিক কাজের বিবরণ:
১. প্রথম প্যাকেজ:
এলাকা: সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা পর্যন্ত।
দৈর্ঘ্য: ৮.৪ কিলোমিটার।
ব্যয়: ৩৫ কোটি টাকা।
ঠিকাদার: এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।
২. দ্বিতীয় প্যাকেজ:
এলাকা: রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত।
দৈর্ঘ্য: ৭ কিলোমিটার।
ব্যয়: ৩৪ কোটি টাকা।
ঠিকাদার: এমএ কনস্ট্রাকশন।
৩. তৃতীয় প্যাকেজ:
এলাকা: চুনতি মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত।
দৈর্ঘ্য: ৬ কিলোমিটার।
ব্যয়: ৩০ কোটি টাকা।
ঠিকাদার: এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।
দীর্ঘমেয়াদী সরকারি পরিকল্পনা (২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা):
৪ লেনে উন্নীতকরণ: ২৬.২১ কিলোমিটার সড়ক।
ফ্লাইওভার: ২.৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের নাম: হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ-১)।
প্রকৌশলীর বক্তব্য:
"ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে সড়ক ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত বাড়ানো হবে। বিশেষ করে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার ১ কিমি অংশে মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে চার লেন করা হচ্ছে যাতে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানো যায়।"
— আবু হানিফ, উপসহকারী প্রকৌশলী, দক্ষিণ সওজ।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও জনদাবি
লোহাগাড়া ও চুনতি এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরেই 'ডেথ ট্র্যাপ' বা মৃত্যুফাঁদ হিসেবে পরিচিত। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে চুনতি এলাকায় মাত্র দুটি দুর্ঘটনায় ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি।
এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে মহাসড়কটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ৪ বা ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি উঠেছে। মঙ্গলবার একই দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সচেতন শিক্ষার্থীরা।
মহাসড়কের ভবিষ্যৎ: ২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাম্প্রতিক সংসদীয় বক্তব্য অনুযায়ী, বড় পরিসরে উন্নয়নের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে।
প্রথম পর্যায়: ২৬.২১ কিমি সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে।
বিশেষ সংযোজন: ২.৬৬ কিমি দীর্ঘ একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।
সময়সীমা: পুরো প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
চুনতি জাঙ্গালিয়া অংশে এই ৯০০ মিটারের সংস্কার কাজকে মহাসড়কের বৃহত্তর উন্নয়নের একটি প্রাথমিক কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কেএম ইয়াহিয়া নয়ন, নির্বাহী সম্পাদক: ম.ত.ই- তৌহিদ, সহ সম্পাদক: নুসরাত ফারহানা নীলিমা, বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মদ সাদেক।
Copyright © 2026 Daily Today Times. All rights reserved.