
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানগুলোর একটি হলো— ব্রাজিল আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়েকে কখনো হারাতে পারেনি। পাঁচবার বিশ্বকাপ জেতা সেলেসাওরা জার্মানি, আর্জেন্টিনা বা ইতালির মতো পরাশক্তিদের একাধিকবার গুঁড়িয়ে দিলেও নরওয়ের সামনে এলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে।
দুই দলের অতীতের হেড-টু-হেড রেকর্ড:
মোট ম্যাচ: ৪টি
নরওয়ের জয়: ২টিতে
ব্রাজিলের জয়: ০ (শূন্য)
ড্র: ২টিতে
গোল সংখ্যা: নরওয়ে ৮টি, ব্রাজিল ৫টি।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে রোনালদো, রিভালদো, রবার্তো কার্লোসদের নিয়ে গড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্রাজিল দলটিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল নরওয়ে। দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়।
অতীতের রেকর্ড নরওয়ের পক্ষে কথা বললেও, বর্তমান শক্তির বিচারে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা ব্রাজিল দল অনেকটাই এগিয়ে।
বগ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে আসা ব্রাজিল শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং এন্দ্রিকের মতো তরুণদের নিয়ে গড়া ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যেমন ক্ষুরধার, তেমনি মার্কিনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালেসের রক্ষণভাগও বেশ নিরেট। তবে ব্রাজিলের জন্য বড় দুশ্চিন্তা হলো— বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে নকআউট পর্বে তাদের শেষ ৬টি ম্যাচের প্রতিটিতেই তারা হেরেছে।
স্তাল সলবাকেনের অধীনে নরওয়ে এবারের বিশ্বকাপে দারুণ খেলছে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং আর্সেনাল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের যুগলবন্দী যেকোনো ডিফেন্সের জন্য এক আতঙ্কের নাম।
অতীতের জয়ের রেকর্ড নরওয়েকে আত্মবিশ্বাস দিলেও আধুনিক ফুটবল অ্যানালিটিক্স ও সুপারকম্পিউটারের মডেলগুলো ব্রাজিলের জয়ের পক্ষেই রায় দিচ্ছে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬%। বিপরীতে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২.৪% এবং ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে (ড্র) যাওয়ার সম্ভাবনা ২৪%। সার্বিকভাবে ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ৬৫.৬%।
ফিফা অফিশিয়াল ডাটা: ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.২% এবং নরওয়ের ২১.৪%।
আজকের ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং নরওয়ের বিপক্ষে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে চলে আসা ‘অভিশাপ’ বা জয় না পাওয়ার বৃত্ত ভাঙার এক মহা সুযোগ। অন্যদিকে হালান্ডের নরওয়ে চাইবে তাদের ঐতিহাসিক অপরাজেয় রেকর্ড ধরে রেখে আরও একটি রূপকথা লিখতে। আজ রাতে নিউ জার্সির মাঠে সাম্বার ছন্দ জিতবে নাকি ভাইকিংদের গর্জন, তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো বিশ্ব।
মন্তব্য করুন