
আলাউদ্দীন আলো,কক্সবাজার
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দ, কাদা, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে সড়কটি এখন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পৌরসভার কবির আহমদ চৌধুরী বাজার সংলগ্ন ভোলাইয়াঘোনা এলাকার এই সড়কটি শতাধিক পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। এছাড়া বাইম্যাখালী, পশ্চিম ভোলাইয়াঘোনাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও বিকল্প পথ হিসেবে এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ পুরো সড়কজুড়েই ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের মতো অবস্থা তৈরি হয়। কোথাও কাদা, কোথাও আবার সড়কের অংশ ভেঙে যাওয়ায় রিকশা-ভ্যান তো দূরের কথা, পথচারীদেরও পায়ে হেঁটে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির এমন বেহাল দশা তৈরি হয়েছে।
সড়কের দুই পাশে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা রয়েছে। পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত ব্র্যাক পরিচালিত দুটি সিপ্টের একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রতিদিন কোমলমতি শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদাময় ও পিচ্ছিল এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উজানটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাব উদ্দিন বলেন,
”বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। নির্বাচন এলেই নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। দীর্ঘদিনের অবহেলায় সড়কটি এখন মানুষের দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।”
ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম বলেন,
”এখানে দুটি সিপ্টের একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে থাকা পানি স্কুল কক্ষে ঢুকে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। ছোট ছোট শিশুরা কাদা মাড়িয়ে স্কুলে আসে, অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহতও হয়।”
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কটির কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। বর্ষাকালে অনেক যানবাহন এই সড়কে প্রবেশ করতে না চাওয়ায় উৎপাদিত সবজি, মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও এই সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় রোগীদের খাটিয়া বা বিকল্প উপায়ে বহন করতে হয়, যা রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে।
স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি ভাঙাচোরা রাস্তার বিষয় নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের অবকাঠামো। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।
ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের দায়িত্বশীল মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী সংসদীয় আসনের নির্বাচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, এখন বাস্তব উন্নয়ন চায়। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মন্তব্য করুন