
চকরিয়া পৌরসভার টিকাদানকারী চম্পক দত্তের বিরুদ্ধে জনসম্মুখে এক নারীকে চরম হেনস্তা, শ্লীলতাহানি ও আবাসিক হোটেলে যাওয়ার অনৈতিক কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সামনের রাস্তায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী ইয়াছমিন সুলতানা লাইলা জানান, তিনি তার ছেলের স্কুলের অভিভাবক সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে পূর্ব পরিচিত হওয়ার সুবাদে চকরিয়া পৌরসভার টিকাদানকারী চম্পক দত্তের সাথে তার দেখা হয় এবং সালাম দেয়। কিন্তু কুশল বিনিময়ের একপর্যায়ে চম্পক দত্ত তাকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অনৈতিক কুপ্রস্তাব দেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে অবৈধ যৌনমিলন করার আহ্বান জানান।
একজন মুসলিম নারী হিসেবে এই ধৃষ্টতায় চরম মর্মাহত ও অপমানিত বোধ করে ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আল্লাহর ভয় দেখিয়ে কালিমা পড়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু অভিযুক্ত চম্পক দত্ত নিজের ভুল স্বীকার না করে আরও বেশি উগ্র ও খারাপ আচরণ শুরু করেন। এমতাবস্থায় জনসম্মুখে নিজের আত্মসম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে উক্ত নারী তাকে একটি চড় মারতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চড় খাওয়ার পর চম্পক দত্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং হুমকি দেয় যে, এই কুপ্রস্তাবের বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হবে এবং পৌরসভা থেকে কোনো ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হবে না। এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী নারী চরম সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্যে ভুগছেন।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত চম্পক দত্তের চরিত্র ভালো নয়। ইতিপূর্বেও তার এমন নারীলোভী আচরণের কারণে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে অন্যজনের সাথে চলে গেছেন বলে জানা যায়।
এদিকে অভিযুক্ত চম্পক দত্তের কাছে মুঠোফোনে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উক্ত মহিলাটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” এই বিষয়ে তিনি চকরিয়া থানার ওসিকে কল করে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
পৌরসভার একজন দায়িত্বশীল কর্মচারী হয়ে জনসম্মুখে একজন নারীর প্রতি এমন চন্ডাল, মানহানিকর ও অনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী নারী ইয়াছমিন সুলতানা লাইলা উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে লম্পট ও চরিত্রহীন পৌর কর্মচারী চম্পক দত্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন