ব্রেকিং নিউজ
Agami IT
২৬ মে ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হজের আগে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন হজযাত্রীরা।

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় আজ ৯ জিলহজ মঙ্গলবার। আজ পবিত্র হজ। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ এর বাংলা অর্থ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

তবে গতকাল সোমবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে তাঁবুর নগরী মিনায় পৌঁছেছেন লাখো হজযাত্রী। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আল্লাহর মেহমানরা রওনা হচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে।

ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। আর পবিত্র হজের তিনটি ফরজের অন্যতম হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। এটিই হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

অশ্রুভেজা কণ্ঠে পার্থিব দুনিয়ার যত অপরাধ, পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে পরিবার-আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী-পরিচিতজন, দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। সব চাওয়া-পাওয়া, মনের আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ–তাআলার কাছে ব্যক্ত করবেন হাজিরা।

সারা বিশ্ব থেকে এবার ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালন করতে মক্কায় জড়ো হয়েছেন। নানা বর্ণের, নানা ভাষার মুসলিমরা মিশেছেন একই স্রোতে। আল্লাহর মেহমানরা আজ আরাফাতের ময়দানে দিনভর অবস্থান করবেন। এই মরুর ময়দানে ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের খুতবা দেওয়া হবে। এবার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফির খুতবা দেওয়ার কথা রয়েছে। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে এই বিস্তীর্ণ ময়দানে হাজিরা সারা দিন পার করবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হাজিরা আল্লাহর জিকির-আসগার, তিলাওয়াত, দোয়া-মোনাজাতে নিমগ্ন থাকবেন।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানের দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাজিরা জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে গেলে হাজিরা অত্যন্ত কাতর ও বিনয়ী কণ্ঠে একযোগে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। অশ্রুভেজা কণ্ঠে পার্থিব দুনিয়ার যত অপরাধ, পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে পরিবার-আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী-পরিচিতজন, দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। সব চাওয়া-পাওয়া, মনের আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ–তাআলার কাছে ব্যক্ত করবেন হাজিরা।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ হাজিদের নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। হাদিসে আছে, ‘আরাফাহর দিন আল্লাহ এত বেশি পরিমাণ জাহান্নামিকে অগ্নি থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোনো দিবসে দেন না।’ (মুসলিম শরিফ)

হজের অংশ হিসেবে হাজিরা আরাফাতের ময়দান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ওয়াজিব। ফজর নামাজের পর তাঁরা সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে আবার মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন।

এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-ইফাদাহ) করবেন। তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিন (ছোট, মেজ ও বড় শয়তান) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন।

পবিত্র কাবা তাওয়াফ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানো, মিনার জামারায় পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি ইত্যাদি হজের ইবাদত। জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তাঁরা আগামীকাল বুধবার কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাইয়ের স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে অর্থ জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে আবার মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন।

পবিত্র হজের প্রতিটি ইবাদতের মধ্যেই রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য। এগুলোর সঙ্গে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানি, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা-বিশ্বাস, আনুগত্যের শিক্ষা রয়েছে। ১১ ও ১২ জিলহজ মিনার জামারায় পাথর নিক্ষেপ শেষে হাজিরা আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফের পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।

তবে কেউ কেউ আবার ওমরাহ পালন করবেন, ইসলামের ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখবেন। মদিনায় গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর কবর জিয়ারত করবেন।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ হজযাত্রী যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হজ পালন করছেন।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হজযাত্রীদের নিজস্ব ক্যাম্পে যাতায়াতব্যবস্থা সাজাতে এবং পবিত্র স্থানগুলোয় দেওয়া সেবার মান তদারক করতে সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করেছে। মন্ত্রণালয়ের এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের থাকার জায়গা ও আতিথেয়তা কেন্দ্র থেকে মিনায় যাওয়ার বিষয়টি দেখভাল করা; তাঁবুতে তাঁদের সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করা; নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়া এবং ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করা।

জিলকদ মাসের শুরু থেকে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ে ৮৩ হাজারের বেশি পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। হাজিদের বাসস্থান, আতিথেয়তা কেন্দ্র, তাঁবু এবং সব ধরনের সেবাকেন্দ্র এই পরিদর্শনের আওতাভুক্ত থাকছে। এতে তাদের কাজের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়, নির্ধারিত নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা যায় এবং যেকোনো সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে হজযাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার মান উন্নত করা যায়।

হজ আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলিম পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ। হজের তিনটি ফরজ হচ্ছে—হজের নিয়তসহ ইহরাম বাঁধা, ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।

বুখারি শরিফে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে দূরে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর প্রকৃত হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারের বিলম্ব উচিত নয়: আহমেদ আবু জাফর

কক্সবাজারে বিএমএসএফ’র জেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি জসিম, সম্পাদক নাজিম

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চমেকে ভর্তি ‘ডেইলি টুডে টাইমস’ এর নির্বাহী সম্পাদক তৌহিদ সিকদার

চকরিয়ায় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক মনসুর মহসিন

ব্রাজিল বনাম নরওয়ে: ঐতিহাসিক সেই ‘অভিশাপ’। জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬% -২২.৪%

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকীর দায়িত্ব গ্রহণ

চকরিয়ায় পৌর কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারীকে শ্লীলতাহানি ও কুপ্রস্তাবের অভিযোগ; প্রতিবাদে চড়, পাল্টা হুমকির মুখে ভুক্তভোগী

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এনটিসির নতুন অংশীদারিত্ব

চকরিয়ায় সংস্কারহীন ২৫০০ মিটার সড়ক যেন ফসলি জমি, বর্ষায় ১৬ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

কবিতা

১০

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক, অধিদপ্তরের একগুচ্ছ নির্দেশনা

১১

চকরিয়ায় সরকারি ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের দাবিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বরাবরে আবেদন করেন সাংবাদিক সাঈদী আকবর ফয়সাল 

১২

‎পেকুয়ায় এক যুগেও সংস্কারহীন ৫০০ মিটার সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে ‎

১৩

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের মন্তব্যের জের; বিএমএসএফ প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে

১৪

ভারতে গরুর মাংস রান্নার অভিযোগে তিন মুসলিম নারী গ্রেপ্তার

১৫

ডিআইজিসহ পুলিশের ২১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদোন্নতি ​

১৬

Eye specialist Professor Dr. Rabiul Hossain passes away

১৭

৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রকাশ এনসিপির

১৮

মসজিদের দান করা জমি ‘উধাও’: ভুয়া খতিয়ানের কারসাজিতে ম্যাক্সের উন্নয়ন কাজে বাধা!

১৯

ছবি শেয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন পাটওয়ারী

২০